About 3 weeks ago 47 Views

*
Abu Said
's Bio
جا الحق و زحق البطل،ان الباطل كان زهوق
Home » Islamic Story » রক্তাক্ত লাল মসজিদ (১ম পর্ব) – ইতিহাস

২০০১ সালে যখন আমেরিকা ইসলামি ইমারাহ
আফগানিস্তানের ওপর আক্রমণ চালায় এবং
পরবর্তীতে যখন ক্রুসেডার সংঘ ন্যাটোও
তাদের সঙ্গে মিলে আফগানের ভূমি থেকে
ইসলামি শাসনব্যবস্থার মূলোৎপাটন করার জন্য
নিজেদের সর্বশক্তি ব্যয় করে তখন এর কিছু
প্রভাব পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তানের ওপরও
পড়ে।
পাকিস্তান যদিও ইতিপূর্বে আফগানিস্তানকে ইসলামি
ইমারাহ হিসেবে মেনে এসেছে, কিন্তু হঠাৎ
দেখা গেল, তারা নিজেদের আদর্শ পরিবর্তন
করে রাতারাতি আমেরিকা ও ন্যাটোর সহযোগী
রাষ্ট্রে পরিণত হলো। তারা আফগান মুসলিমদের
বিরুদ্ধে ক্রুসেডারদেরকে খোলাখুলি সহযোগিতা
দিতে লাগল। এর পাশাপাশি পাকিস্তান সরকার শক্ত হাতে
সমাজ পরিবর্তনেরও ধারাপাত করল। জেনারেল
পারভেজ মোশাররফ সরকারের এজেন্ডাগুলো
একের পর এক বাস্তবায়িত হতে লাগল।
পাকিস্তান রাষ্ট্রটি একদা ইসলামের কালিমা ‘লা ইলাহা
ইল্লাল্লাহ’র ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল—এ কথা
সর্বজনস্বীকৃত ও সর্বজনবিদিত। কিন্তু কার্যত এ
সময়ে এসে চারিদিকে স্রোতের মতো
ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা হতে দেখা গেল। আইনের
অনেক ধারার মধ্যে আমূল পরিবর্তন আনা হলো।
সুকৌশলে ইসলামপন্থীদের কোণঠাসা করে রাখা
হলো। খোদাদ্রোহ, দীন বিরোধিতা,
অশ্লীলতা ও বেহায়পনা এবং পুঁজিবাদি লুণ্ঠন পুরো
দেশকে ছেয়ে ফেলল। মিডিয়াকে এতটাই
বাকস্বাধীনতা দেওয়া হলো যে, তারা ঠুনকো সব
অজুহাতে ইসলামের বিভিন্ন বিধানকে রীতিমতো
তাচ্ছিল্য করতে লাগল।
এসব কিছু যে সময় সংঘটিত হচ্ছিল তখন পাকিস্তানের
দুটো প্রদেশে ইসলামপ্রেমী মানুষদের শাসন
কার্যকর ছিল এবং জাতীয় সংসদে উল্লেখযোগ্য
সংখ্যক আলিমের উপস্থিতি ছিল। যার কারণে সাধারণ
তাওহিদি জনতার অন্তরে এই প্রশ্ন জাগা মোটেও
অস্বাভাবিক ছিল না যে, জাতীয় সংসদে এত সংখ্যক
আলিমের সরব উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও দেশে
ইসলাম বাস্তবায়িত হওয়া তো দূরের কথা; তৎকালীন
শাসকের ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ রোধেও
তাদের সবিশেষ উল্লেখ করার মতো কোনো
অবদান কেন চোখে পড়ে না।
পরিস্থিতির এই ক্রান্তিকালে ইসলামাবাদে অবস্থিত লাল
মসজিদ থেকে মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের এক
আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। যে আন্দোলনকে
‘তেহরিকে শরিয়ত’ নামে নামকরণ করা যেতে
পারে। লাল মসজিদের ব্যাপারে এই বাস্তবতা
মুসলমানদের অজানা নয় যে, এই মসজিদ সর্বদা দীনি
আন্দোলনের মারকাজ হিসেবে ভূমিকা পালন করে
এসেছে। ‘তেহরিকে নেজামে মুস্তফা’,
‘তেহরিকে খতমে নবুওয়াত’, ‘তেহরিকে
তাহাফফুজে নামুসে রিসালাত’ থেকে শুরু করে
আফগানিস্তানের ওপর সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার
আগ্রাসী আক্রমণের প্রতিবাদ—সব ক্ষেত্রেই
এই মসজিদ থেকে তাওহিদের ধ্বনি উচ্চকিত
হয়েছে এবং এর মিম্বার থেকে যথাযথ
দিকনির্দেশনা পেয়ে মুহাম্মাদ ﷺ –
এর
সিপাহিরা নতুন বলে বলিয়ান হয়েছে।
আমেরিকা যখন আফগানিস্তানের ওপর ক্রুজ মিসাইল
নিক্ষেপ করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে নিজেদের
চরম ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে তখন হজরত মাওলানা
আবদুল্লাহ শহিদ রহ.-এর জবান আমেরিকার বিরুদ্ধে
পুরোদস্তুর গর্জে ওঠে এবং শেষাবধি এই
অপরাধেই (?) তাকে শহিদ করে দেওয়া হয়। লাল
মসজিদ সেই সময় আন্দোলনের রণক্ষেত্রে
পরিণত হয় যখন পাকিস্তান সরকার বিভিন্ন অঞ্চলে
তাওহিদবাদী মুসলমানদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান
চালায় এবং যার কারণে মুজাহিদদের বিপুল পরিমাণ ক্ষতি
হয়। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে লাল মসজিদের
খতিব মাওলানা আবদুল আজিজ সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে
তার সেই ঐতিহাসিক ফাতওয়া দেন; পরবর্তীতে
যাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে ও আল্লামা
আবদুর রশিদ গাজি শহিদ রহ.-এর বিরুদ্ধে
দেশদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়।
এ সময় লাল মসজিদের অধীনে পরিচালিত মহিলা
মাদরাসা জামিয়া হাফসায় পুলিশ দুবার প্রবেশ করে নেহাত
পর্দানশীন ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের ওপর লাঠিচার্জ
করে এবং অনেক ছাত্রীকে আহত করে। এই
আন্দোলনকে দমিয়ে দেওয়ার ঘৃণ্য স্বার্থে
ইসলামাবাদে সাত সাতটি মসজিদ শহিদ করে দেওয়া হয়,
আরও ১০টি মসজিদকে নোটিশ দেওয়া হয় এবং এ
ছাড়াও অতিরিক্ত ৮০টি মসজিদ ও মাদরাসাকে ধ্বংসের
তালিকায় রাখা হয়।
সাত সাতটি মসজিদের শাহাদাত কোনো মামুলি ব্যাপার
ছিল না। কিন্তু এ ব্যাপারটি নিয়ে ইসলামপন্থীদের
মধ্যে তেমন ভারী কোনো উদ্বেগ বা
কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। ইসলামাবাদে
নামকাওয়াস্তে কিছু প্রতিবাদ আন্দোলন হয়েছে;
তবে তা-ও খুব অল্প সময়েই ঝিমিয়ে পড়েছে।
এই সঙ্গিন পরিস্থিতিতে উম্মাহর দরদী মনীষী
দুভাই শরিয়াহ বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে প্রতিবাদমুখর
হয়েছেন। মাওলানা আবদুল আজিজ সে সময় তার
এক রচনায় লেখেন—
‘এই দেশ ইসলামের জন্য গঠিত হয়েছে। যদি
এখানে ইসলামের বাস্তবায়ন হতো তাহলে
আমাদের সামনে এত সমস্যা সৃষ্টি হতো না। ছয়
লাখের চাইতে অধিক মুসলমান ত্যাগ-তিতিক্ষা
সয়েছে। মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়েছে,
জায়গাজমি ত্যাগ করেছে, কোটি কোটি মানুষ
নিগৃহীত হয়েছে। এত সব ত্যাগের ফলাফল তো
এটাই হওয়া উচিত ছিল যে, এখানে ইসলাম বাস্তবায়িত
থাকবে। কিন্তু এটা আর হয়ে ওঠেনি। ইসলামি
শাসনব্যবস্থা এবং ইসলামি দণ্ডবিধি কার্যকর না থাকার
কারণে পুরো দেশে চুরি, ডাকাতি, খুন এবং অসংখ্য
সামাজিক অপরাধের বীভৎস সব দৃশ্য সামনে
আসছে। উৎকোচের অত্যাচার অনেক বেড়ে
গেছে। মানুষ পাচ্ছে না ন্যায্য অধিকার। দারিদ্র্য
ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে। এ
সকল সমস্যার সমাধানের সম্ভাবিত পন্থা হলো, যেই
প্রতিপালক পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, সেই
প্রতিপালকের শরিয়াহব্যবস্থাই এখানে বাস্তবায়ন করা
হবে।’ (ইসলামি নেজাম কে আমালি নাফায কে লিয়ে
ইবতিদায়ি খাকা। প্রকাশনী : তেহরিকে তালাবা ও
তালিবাত।)

Leave a Reply on TipsRain.Com

Related Tunes